সাংবাদিক ক্রিস্তফ গ্লেইজেসকে দ্রুত ফেরাতে জিদানের আন্তর্জাতিক বার্তা

সাংবাদিক ক্রিস্তফ গ্লেইজেসকে দ্রুত ফেরাতে জিদানের আন্তর্জাতিক বার্তা

আলজেরিয়ায় সাত বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ফরাসি ক্রীড়া সাংবাদিক ক্রিস্তফ গ্লেইজেসের মুক্তি এবং দ্রুত স্বদেশে ফেরার আশা প্রকাশ করেছেন ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ জিনেদিন জিদান। মঙ্গলবার প্যারিসে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা আশা করি, তিনি যেন নিজের বাড়িতে ফিরতে পারেন।”

আলজেরীয় বংশোদ্ভূত জিদান আরও বলেন, “আমি একজন অভিভাবকের মতোই ক্রিস্তফ গ্লেইজেসকে সমর্থন করি।” তার এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন গ্লেইজেসের মুক্তির দাবিতে আন্তর্জাতিক মহলে বিভিন্ন মহল থেকে সমর্থনের আওয়াজ জোরালো হচ্ছে।

৩৭ বছর বয়সী গ্লেইজেস ফরাসি ক্রীড়া সাময়িকী সো ফুট-এর সহযোগী সাংবাদিক। ২০২৪ সালের মে মাসে আলজেরিয়ার ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাব জেউনেস স্পোর্তিভ দ্য কাবিলি (জেএসকে)-কে নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির সময় তিনি দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। পরে ২০২৫ সালের জুনে তাকে “সন্ত্রাসবাদের পক্ষে প্রচারণা” চালানোর অভিযোগে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই বছরের ডিসেম্বরে আপিল আদালতও সেই রায় বহাল রাখে।

এরপর রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমা পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করতে চলতি বছরের মার্চে গ্লেইজেস সর্বোচ্চ আদালতে করা আপিল প্রত্যাহার করেন। তার আইনজীবীরা গত ৩ জুন জানান, রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলও আলজেরিয়ার বিচার বিভাগ খারিজ করে দিয়েছে। তাদের মতে, এর ফলে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ শেষ হয়েছে এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের পথে আর কোনো আইনি বাধা নেই।

গ্লেইজেসের মুক্তির পক্ষে এর আগেও আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা অবস্থান নিয়েছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আশা প্রকাশ করেছিলেন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমা পেয়ে গ্লেইজেস যেন বিশ্বকাপ মাঠে উপস্থিত থাকতে পারেন। তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ফ্রান্সের সাবেক কোচ দিদিয়ে দেশঁ-ও প্রকাশ্যে তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন।

জিদানের সাম্প্রতিক এই মন্তব্য গ্লেইজেসের মুক্তির দাবিকে নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনায় নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে আলজেরীয় বংশোদ্ভূত এবং বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে জিদানের বক্তব্য কূটনৈতিক ও মানবাধিকার ইস্যুতেও নতুন গুরুত্ব পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।